Tuesday, July 14, 2020

কবিকে মুক্তি দিন




মানুষ মরে গেলে ভূত হয় না।

কবিরা মরে গেলে ভূত হয় না।

কিন্তু কবিদের মেরে ফেললে তাঁরা ভূত হয়ে যান।

তখন তাঁরা আজীবন আপনাদের তাড়া করে বেড়ান,

ছুটিয়ে মারেন।

উদাহরণ লোরকা, উদাহরণ চে।

তাই বলছি, ওঁকে ছেড়ে দিন।

উনি হয়তো ওঁর স্ত্রী আর কন্যাদের গাল বেয়ে

গড়িয়ে নামতে থাকা মুক্তোর দানাগুলিকে

আর চিনতে পারবেন না।

ঝঞ্ঝার মধ্যে লুকিয়ে থাকা নিজেরই এক প্রিয় পঙ্‌ক্তিকে

ওঁর হয়তো মনে হবে অন্য এক সাহসী চারণের বৃংহণ।

নদীর সঙ্গে কুলকুল বইতে থাকা নিজের আর এক পঙ্‌ক্তিকে

ওঁর হয়তো মনে হবে অশ্রুত সঙ্গীত।

তবু ওঁকে মুক্তি দিন।

 

ভারাভারা রাওকে আপনারা কোনওরকমে সামলাতে পেরেছেন

কিন্তু ভারাভারা রাও-এর ভূতকে সামলাতে পারবেন না।

 

স্কেচ: দেবাশিস সাহা

13 comments:

  1. এভাবেই কবিতা সংক্রামিত হোক

    ReplyDelete
  2. কবিতার সঙ্গে একজন কবির কাব্যব্যক্তিত্বের যেমন নাড়ির সম্পর্ক, তেমনই সম্পর্ক তাঁর রাজনৈতিক বোধের সঙ্গে৷ আমার মতে, এই রাজনৈতিক বোধ, একজন কবিকে এক চিরকালীন অ্যানার্কিস্ট করে তোলে। তাঁর দায় কোনও ক্ষমতাকাঠামোর প্রতি নয়, তাঁর দায় মতাদর্শের প্রতি। আবার, একটি মতাদর্শকে ধর্মের মতো করে অনুসরণ করে চললে, তাকে বারবার আক্রমণ এবং কাউন্টার না করে চললে, সেই মতাদর্শ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তখনও কবির মৃত্যু ঘটে বলেই আমার মনে হয়। গান্ধীর সাম্যবাদী দর্শনকেও যেমন প্রশ্ন করা উচিত তেমন প্রশ্ন করা উচিত মার্কসের সাম্যবাদী দর্শনকেও। ত্যাগ এবং শ্রেণিসংগ্রামের ধারণায় এই দুই বিপরীতমুখী ভাবনার সঠিক দ্বন্দ্ব আজও হয়েছে কি? কারণ দ্বন্দ্ব না হলে মিলনের দ্বন্দ্বটিও তৈরি হয় না। তো, মনে হয়, একজন কবির রাজনীতি এখানেই। কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচ বা কাঠামোয় তাঁর ভাবনা, ভাষা ও অস্তিত্বকে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। তিনি ছিটকে যাওয়া ব্যক্তি। তিনি কেন্দ্রে বসে থাকা মৃতবৎ যাজক বা রাজা বা প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি বিশুপাগল। প্রমিথিউস।
    তা না হলে তিনি হয়ে পড়বেন পোষা কাকাতুয়া, লাউডস্পিকার, কাট আউট এবং সরকারি অফিসার। একজন ব্যক্তি মানুষ হিসেবে এই সব হয়ে ওঠা খারাপ নয়, বরং হয়তো সমাজের শাসনতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়৷ কিন্তু একজন কবি তো হনুমান নন যে হাঁটু গেঁড়ে বসে বুক চিরে দেখাবেন রামলীলা।
    আসলে একজন কবি যদি নিজেকে অনুকরণ এবং নিজের প্রতিলিপি করে যেতে না চান, তবে, তাঁকে সহ্য করতেই হবে শাসকের আঘাত, অত্যাচার, সে যে শাসকই শাসনে থাকুন।
    এই পরিপূর্ণ কাব্যব্যক্তিত্বের একজন কবি হলেন কবি ভারভারা রাও। এই অসুস্থ, পীড়িত শরীরেও আমাদের চোখের সামনে গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষে নির্যাতিত। কোনো শাসকের কিন্তু রা নেই। কারণ সব শাসকই জানে, তিনি বাঁধা গরু নন। তিনি কবি। তিনি বিপজ্জনক।
    তাঁকে মুক্তি দিন। কারণ ' একটি মশাল ঘুরতে ঘুরতে' জ্বালিয়ে দেবেই সহস্রকে।

    ReplyDelete
  3. মারাত্মক লেখা...চমকে গেছি একদম...এই আবেদন স্লোগান হয়ে গর্জে উঠুক

    ReplyDelete
  4. অপূর্ব ভাবনা।

    ReplyDelete
  5. ভীষণ রকম সত্য উচ্চারণ। কেউ পারেনি সামলাতে, পারবেও না কেউ। ভারভারা রাও জনগণের সঙ্গীত হয়ে যাবেন।

    ReplyDelete
  6. মুক্তি পান উনি মন প্রাণ থেকে চাই

    ReplyDelete
  7. কলম তো চিরকাল ই তরবারির থেকে ধারালো

    ReplyDelete
  8. অসম্ভব একটি কবিতা।মশালের মতো।

    ReplyDelete
  9. মর্মভেদী লেখা।

    ReplyDelete
  10. মর্মভেদী লেখা।

    ReplyDelete
  11. মর্মভেদী লেখা।

    ReplyDelete
  12. Bhebe dekhar mato kabita ekti.

    ReplyDelete
  13. যেন ভেতরের আগুন বেরিয়ে এল। খুব প্রাসঙ্গিক একটি লেখা। অনেক ভালোবাসা৷

    ReplyDelete

রাজকল্যাণ চেল: বাংলা কবিতার আন্তর্জাতিক স্বর

বাংলা কবিতা থেকে এক রকম স্বেচ্ছা নির্বাসনই নিয়েছেন রাজকল্যাণ চেল। ক্বচিৎ কখনও একটি-দু’টি পত্রিকায় তাঁর লেখা হঠাৎ হঠাৎ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্ত...