Thursday, November 19, 2020

 


ডুব

অংশুমান কর

কে বলবে যে, দু’দিনের ট্রেন জার্নি করে ওরা অষ্টমঙ্গলা থেকে ফিরেছে মাত্র দু’দিন আগে! কথা বলেই চলেছে, বলেই চলেছে প্লাবন আর নদী! যাচ্ছে নদীর মাসির বাড়ি।

       ওদের উলটোদিকের সিটে এক বয়স্ক দম্পতি। বসে রয়েছেন দু’জন মৃত মানুষের মতো। দেখে মনে হচ্ছে ওদের সব কথা ফুরিয়ে গেছে। ট্রেনে ওঠার পর থেকে সহযাত্রীদের সঙ্গে তো দূর অস্ত, নিজেদের মধ্যেও একটাও কথা বলেননি দু’জনে। শুধু মাঝে মাঝে তাকিয়ে থাকছেন জানলা দিয়ে। বাইরে। আর মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখছেন প্লাবন আর নদীকে। সেই দৃষ্টিও স্থির। রোবটের মতো। সেই দৃষ্টিকে এড়িয়েই প্লাবনের ইচ্ছে করছিল নদীতে টুক করে একটা ডুব দিতে। এই ক’দিন বারবার নদীতে ডুব দিয়েও ওর আশ মিটছে না কিছুতেই। ওকে কোনওমতে নিরস্ত করে ফিশফিশ করে নদী বলল, “সামনে দেখ, ওই বয়সে পৌঁছে দেখব কত বেঁচে থাকে প্রেম!”

       গুম মেরে গেল প্লাবন। ভয় হল। সত্যিই ওরা যখন ওই বৃদ্ধ দম্পতির বয়সে পৌঁছবে, তখন কি বেঁচে থাকবে ওদের প্রেম? নাকি মৃত মানুষের মতো চিরকালের জন্য নীরব হয়ে যাবে? ওদেরও দৃষ্টি হয়ে যাবে রোবটের মতো?

       একটা হল্ট স্টেশনে ট্রেনটা থামল। প্ল্যাটফর্ম বেশ নিচু। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা নামছেন। আগে বৃদ্ধ। নেমে তিনি বাড়িয়ে ধরলেন তাঁর হাত। সেই হাত ধরে বৃদ্ধা নামলেন। তারপর হাঁটতে শুরু করলেন দু’জনে। যথারীতি নীরবে।

       প্লাবন দেখছিল। নদী কানের কাছে ফিশফিশ করে বলল, “ওই বয়সে পৌঁছে দেখব কত বেঁচে থাকে প্রেম!”

       এবার মৃদু হাসল প্লাবন। চোখ রাখল নদীর চোখের ওপর। ওর মনে হল ডুব দেওয়ার জন্য সবসময় নদীতে ঝাঁপ না-দিলেও চলে। মনে হল, একটা বয়সের পরে প্রেম মানে যত কথা, তার চেয়ে বেশি নীরবতা।

 

অঙ্কনঃ প্রণবশ্রী হাজরা

 


13 comments:

  1. আহা ... খুব ভালো লাগলো লেখাটা ... সুন্দর ... মন ছুঁয়ে গেল

    ReplyDelete
  2. খুব খুব ভালো হয়েছে ।

    ReplyDelete
  3. The silence that lies at the heart of sound, the left over quiet after all the noise!!
    Khub bhalo laglo contrast ta.

    ReplyDelete

  ­ ­ বাংলা কবিতায় অলোকরঞ্জনী অবদান –হরভজন সিংকে আবার ধরিয়ে দেবে না তো? ফোনের অন্য প্রান্তে অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। এ পাশে আমি। কথা হচ্ছে আশ...